আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান করার স্থান না পাওয়ায় কলকাতায় পূর্বনির্ধারিত একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলের মালিকেরা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের কাছ থেকে ‘হুমকি’ পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় নির্ধারিত এ অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দলটির নেতাদের আলোচনার কথা ছিল।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অভিযোগ করেন, উত্তর কলকাতার ভারত সভা প্রেক্ষাগৃহে তাদের অনুষ্ঠানটি বিজেপির হুমকিতে বাতিল করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপের কারণে আরও ছয়টি প্রেক্ষাগৃহও তাদের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে।
তবে ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত সভা হলের এক কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সিজেপি আগে থেকে স্থানটি বুক করেনি। তারা যে সময়ে হলটি চেয়েছিল, তখন সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠান চলছিল। অন্যদিকে বউবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব সরকারও প্রচারমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে এ ধরনের হুমকির কোনো তথ্য নেই।
সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকে সিজেপির এক সদস্যের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতকারী। ওই ঘটনার জেরেই দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বিজেপির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
দলটির দাবি, বিজেপিশাসিত রাজ্যে এভাবে অনুষ্ঠানস্থল বাতিলের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়।
গত ১৩ আগস্ট দিল্লির একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে স্বেচ্ছাসেবকদের বৈঠক ‘ওপর মহলের চাপে’ বাতিল করে একটি পার্কে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় দলটি।
জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশের আগেও মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা এবং এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখার ঘটনা ঘটে।
জুনের মাঝামাঝি জয়পুরে পুলিশ প্রথমে সিজেপির সভার অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়, পরে শর্ত সাপেক্ষে সভার অনুমতি দেয়।
আশুতোষ রাঙ্কা তাঁর এক্সে বলেন, “এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বিজেপি ভয় পেয়েছে। বাংলার প্রিয় ককরোচদের সঙ্গে এবার আমাদের যোগাযোগের সুযোগ হাতছাড়া হলেও শিগগিরই অনেক বড় একটি অনুষ্ঠান করা হবে।” তিনি আরও জানান, সরকারি স্কুলগুলোতে তাদের পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার অধিকার আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
উল্লেখ্য, সিজেপির নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই সিজেপি একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












