আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচন ও সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করার গুরুতর অভিযোগে কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিষিদ্ধের ঘোষণা না দিলেও, গত সোমবার থেকে পাকিস্তানের কোথাও আলজাজিরার ওয়েবসাইট খোলা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
গত সোমবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আলজাজিরার বিরুদ্ধে ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে আলজাজিরা মুজাফফরাবাদের (আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী) হাতে গোনা কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের তথ্য সম্বল করে চলমান বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তারা কিছু বাছাইকৃত ব্যক্তির বক্তব্যও তাদের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সরকারের ধারণা, এই সময়ে এমন প্রতিবেদন পরিবেশনের পেছনে কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে।”
আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট আসনসংখ্যা ৫৩টি। এর মধ্যে ৩৩টি আসনে স্থানীয়রা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বাকি ২০টি আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য এবং বাকি ৮টি নারী, উলেমা ও টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত।
আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) গত কয়েক মাস ধরে বিধানসভায় এই ‘শরণার্থী কোটা’ তুলে দেওয়ার দাবিতে তীব্র আন্দোলন করে আসছে। এই আন্দোলনের জেরে গত জুন মাসে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিলে বলা হয়, ২৭ জুলাই, ২ আগস্ট এবং ১০ আগস্ট তিন ধাপে ভোটগ্রহণ হবে।
তবে ভোটগ্রহণের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৭ জুলাই আজাদ কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনতার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে অন্তত ৩০ জন নিহত হন।
পাকিস্তানে ওয়েবসাইট ব্লক করার পর আলজাজিরার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আজাদ কাশ্মিরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা কমিটি ফর প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সিপিজে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, টেলিযোগাযোগ বন্ধ করা, সংবাদ পরিবেশনে বাধা প্রদান এবং সাংবাদিকদের আটক ও গুমের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ দিতে হবে।”
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












