বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কারাবাস, আইনি লড়াই এবং ফের বিয়ে করা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। দীর্ঘদিন এসব বিষয়ে নিশ্চুপ থাকার পর মুখ খুলে তিনি জানিয়েছেন, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ পাবে—এই অটল বিশ্বাসের কারণেই এতদিন নীরব ছিলেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নেটিজেনদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরীমণি বলেন, “আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও মানুষ গালি দেয়। দর্শকরা আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। তারা আমাকে সিঙ্গেল এবং আমার সন্তানদের সঙ্গেই দেখতে ভালোবাসে। কেন এমনটা হয়, তা আমার জানা নেই।”
কারাবাস ও আইনি ঝামেলা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর এসব নিয়ে তিনি একবারও কথা বলেননি। তার মনে হয়েছে, সত্য একদিন ঠিকই সবার সামনে আসবে। যতই চাপা দিয়ে রাখা হোক না কেন, কোনো অপরাধ যেমন নিখুঁত হয় না, তেমনি কোনো সত্যও চিরদিন চাপা থাকে না।
পরীমণির দাবি, তাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার ভাষায়, “তখন গ্রেফতারের কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি আমার বাসায় তল্লাশি চালানোর কোনো অনুমতিও তাদের কাছে ছিল না।” পরে পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত শুনে তার মনে হয়েছে, এর অনেক কিছুই আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল। তবে তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। পরীমণি বলেন, “এই ছয় বছরে ধৈর্যই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি এখন কতটা খুশি তা বলে বোঝাতে পারব না। মনে হচ্ছে আমার দুটো পাখা গজিয়েছে, আমি অনেক রিলিফ পেয়েছি। ঘাড় থেকে যেন সমস্ত বোঝা নেমে গেছে।”
মামলার বিষয়ে তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেননি। অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তিনি নাকি বিভিন্ন মানুষকে বিরক্ত ও ব্ল্যাকমেইল করেন। তবে চলমান এই আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কখনো রাষ্ট্রের কাছে কোনো চাপ বা আহাজারি করেননি বলে জানান। আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি বলেন, “যতই সময় লাগুক, যত বছরই হাজিরা দিতে হোক, আমি দেব। আমার বিশ্বাস, আদালত একদিন আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করে আমার সম্মান ফিরিয়ে দেবে।”
দেশের শিল্পীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এই চিত্রনায়িকা বলেন, শুধু শিল্পী নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পী হোক বা রিকশাচালক—সবারই নিরাপত্তা প্রাপ্য এবং সবাই সব ধরনের হেনস্তা থেকে মুক্তি চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












