আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আন্দোলন স্থগিত করার পরও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হয়রানি চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ফের রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের এই ঘোষণায় ভারতজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সোমবার গভীর রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কাউকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) মধ্যরাতে সরকার ও সিজেপি প্রতিনিধিদের মাঝে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সিজেপির পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়, “কোনো আন্দোলনকারীকেই আমরা একা ফেলে যাব না, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি।”
সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন বা নোটিফিকেশন জারির আশ্বাস দিয়েছে।
এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল সিজেপি। পুলিশি অ্যাকশন বন্ধ না হলে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা। তবে মধ্যরাতের ওই বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তারা আসাম ও বিহার সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সিজেপি নেতাদের হাতে তুলে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ওই প্রজ্ঞাপনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের আইনি ছাড় দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার, আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিজেপি ও এনডিএ জোট শাসিত রাজ্যসহ কেন্দ্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সৌরভ দাস বলেন, “সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, যা প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা ধরে চলে। সেখানে তারা আসাম ও বিহার সরকারের প্রজ্ঞাপনের কপি আমাদের দিয়েছেন, যেখানে আটকদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।”
বৈঠক শেষে এক ভিডিওবার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি আসলেই কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তারা বৈঠকে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি তাদের দেখান, যেখানে সব এফআইআর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীরা যেন কোনো আইনি জটিলতায় না পড়েন, সে জন্য অন্যান্য রাজ্য সরকারও যাতে এমন প্রজ্ঞাপন জারি করে, তা নিয়ে বৈঠকে জোরালো আলোচনা হয়েছে।
তার দাবি, মঙ্গলবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সরকার আশ্বস্ত করেছে। সিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রথম দিন থেকে তারা যেমন আন্দোলনকারীদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
উল্লেখ্য, এই সমঝোতা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সিজেপির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পুলিশি ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাসের পরও পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দিল্লিতে আন্দোলনের লজিস্টিক সহায়তায় যুক্ত থাকা স্বেচ্ছাসেবকদেরও আটক ও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি দ্রুত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, সমঝোতা না মানলে তারা ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












