বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমেই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম’-এর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশু বিষয়ক পৃথক ধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও গণপরিবহণে যৌন হয়রানি বন্ধের দাবি উল্লেখযোগ্য।
ডেপুটি স্পিকার প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গ্রাম কিংবা শহর- সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা মোটেও কাম্য নয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবার শেষে খাবার খান, সবার পরে ঘুমান এবং সবার আগে ওঠেন। পরিবারের জন্য তাদের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের পরও তাদের প্রতি যেকোনো অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ সময় তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীদের সামাজিক অবস্থানের উদাহরণ টেনে আনেন।
পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমেই উপস্থাপন করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






