লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: টানা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা বা উপবাস করা বর্তমানে সুস্থ জীবনযাপনের একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মনে করা হয়, এটি শরীরকে সতেজ করতে, ওজন কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। খাবার থেকে দীর্ঘক্ষণ বিরত থাকলে শরীরে অভ্যন্তরীণ অনেক পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। খাবার হজম হওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করলে শরীর স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে প্রথমে লিভারে সঞ্চিত ‘গ্লাইকোজেন’ নামক গ্লুকোজ ব্যবহার করে। এরপর শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার শুরু করে এবং ‘কিটোন’ নামক পদার্থ তৈরি করে। এ সময় সঞ্চিত শক্তি মুক্ত করতে গ্লুকাগনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও অনভ্যস্তরা ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব বা হালকা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমায় না, কারণ যকৃত ক্রমাগত রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ নয়। ডায়াবেটিস রোগী, যারা ইনসুলিন বা শর্করা কমানোর ওষুধ নেন, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, শিশু এবং দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যথায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া), ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
উপবাসের উপকারিতা ও ঝুঁকি
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এ প্রকাশিত ‘ফিজিওলজি, ফাস্টিং’ শিরোনামের একটি ২০২৩ সালের গবেষণায় উপবাসের বিপাকীয় পরিবর্তন ও উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
উপকারিতা: এর অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নতি, যা মেটাবলিক সিনড্রোম এবং ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতি শরীরের চর্বি কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং অ্যাথেরোজেনিক লিপিড হ্রাসে কার্যকর। এছাড়া প্রাণীদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস আলঝেইমার এবং পারকিনসন রোগের মতো স্নায়বিক ব্যাধির অগ্রগতি বিলম্বিত করতে পারে।
ঝুঁকি: উপবাসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডিহাইড্রেশন বা ক্যাফেইন প্রত্যাহারের কারণে মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কর্টিসলের মতো গ্লুকোকর্টিকয়েডের অতিরিক্ত সংস্পর্শের কারণে পেশীক্ষয় এবং ‘প্যারাডক্সিক্যাল ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ হতে পারে।
গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম ওজনের মানুষ, শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে উপবাসের নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। তাই ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার রুটিন সব সময় একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই করা উচিত।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



