বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুন (রোববার) এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এর আগে গতকাল বুধবারের শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও একপর্যায়ে বলেন, “আমি অপরাধ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।” এ সময় তিনি ‘ডলার’ নামের আরেক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন যে তিনি কিছুই করেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন—বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। ‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বা তদন্ত নথিতে এমন কোনো নামের উল্লেখ ছিল না; শেষ পর্যায়ে এসে এই নাম তোলা কেবল বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আশা প্রকাশ করেন, এই বিচার প্রক্রিয়াটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






