বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার নদীয়ারচাঁদ খালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে চলছে সরকারি অর্থায়নে খননকাজ। তবে উন্নয়নের এই উদ্যোগই এখন খালের দুপাড়ে থাকা হাজারো গাছের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খাল খননের নামে প্রকাশ্যে শত শত গাছ কেটে লুটপাট চালানো হচ্ছে। আর এই লুটপাটের দায় নিয়ে এখন একে অপরকে দুষছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এই খালের পাশে প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করেছিল ফরিদপুর বন বিভাগ, যা তদারকির দায়িত্বে ছিল ‘নদীয়ারচাঁদ সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি’। সম্প্রতি খননকাজে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু গাছ কেটে বন বিভাগে জমার অনুমতি দেয় প্রশাসন। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খোদ বনায়ন কমিটির বিরুদ্ধেই প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কাটা গাছ বন বিভাগের নার্সারিতে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, শত শত গাছ কাটার পর সেখানে জমা পড়েছে মাত্র ৫টি গাছ! বাকি গাছের কোনো হদিস নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় গাছগুলোর খুব একটা ক্ষতি হচ্ছিল না। ১৫-২০ বছর বয়সী এই গাছগুলো না কেটেও খুব সহজেই খাল খনন করা সম্ভব ছিল। উমর নগর গ্রামের মো. গফফার মোল্লা বলেন, “গাছগুলো না কেটেও খাল খনন করতে পারতো। পাশে মাটি ফেললেও গাছগুলো থাকতো, ছায়া দিতো।” স্থানীয় সমাজকর্মী সুমন রাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উন্নয়নের নামে যেভাবে বড় গাছের পাশাপাশি ছোট ফলজ ও বনজ বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, তা পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।”
এই বৃক্ষনিধনের দায় নিতে নারাজ কোনো পক্ষই। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “গাছ কাটার মূল হোতা বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বড় গাছগুলো কেটে এখন এর দায়ভার আমার ও বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। এর সঙ্গে আমি বা আমার দল কোনোভাবেই জড়িত নই।”
অন্যদিকে, ফরিদপুরের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা তাওহীদ হোসেন ইউপি চেয়ারম্যানের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “খাল খননের ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আমাদের না জানিয়েই শুরুতে গাছ কাটা শুরু করেন। আমরা জানতে পেরে তা বন্ধ করি। গাছগুলো কাটা হোক, তা আমরা চাই না।”
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, “গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি জমির গাছ এভাবে কেটে নিয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সরেজমিনে তদন্ত করে কী পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে এবং প্রয়োজনের বাইরে গাছ কাটা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর



