আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের পর এবার বিরোধী আসনে বসতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির ধাক্কা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে আগামী শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় এবার বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। বিপরীতে তৃণমূলের ঝুলি আটকে গেছে মাত্র ৮০টি আসনে। তবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রতীকী ধাক্কাটি এসেছে খোদ মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। সেখানে বিজেপি নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এই হারের পর দলের নেতাকর্মীদের মনোবল যখন তলানিতে, ঠিক তখনই সংগঠনকে ‘রিসেট’ করার ডাক দিলেন মমতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে নির্বাচনের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াইয়ের নতুন কৌশল নির্ধারণ। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অভ্যন্তরে যে আত্মতুষ্টি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে কঠোর বার্তা দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলায় বিজেপির উত্থান রুখতে বুথভিত্তিক সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চান যে তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। বরং বিরোধী আসনে থেকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, আগামী শুক্রবারের এই ‘কালীঘাট মিশন’ তৃণমূলের হতাশ কর্মীদের মধ্যে কতটা প্রাণসঞ্চার করতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






