বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষরিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (এআরটি) সরাসরি বাতিল না করে এর বিভিন্ন শর্তাবলি পর্যালোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
চুক্তিটি নিয়ে দেশজুড়ে চলা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা বলেন, “এই চুক্তিতে বাতিলের সুযোগ আছে। প্রথমত, ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে এটি বাতিল করা সম্ভব। তবে দ্বিতীয় একটি উপায় হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তাবলিতে পরিবর্তন আনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিতীয় অপশন অর্থাৎ পর্যালোচনার পক্ষে। আগে আমাদের সরকারিভাবে এটি পর্যালোচনা করতে হবে।”
জাহেদ উর রহমান আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। চুক্তির প্রভাব সম্পর্কে সরকার সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তিটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি হুট করে বাতিল করে দিলে তার ইমপ্যাক্ট বা প্রভাব কী হতে পারে, তা আমরা বুঝতে পারছি। কোন প্রেক্ষাপটে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেটিও বিবেচনার বিষয়। তবে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বা সমস্যাজনক হতে পারে এমন শর্তগুলো চিহ্নিত করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘নেগোসিয়েশনে’ (দর-কষাকষি) যেতে চাই।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি বাতিল করলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) নিয়ে যে পুরোনো সংকট ছিল, তা পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই চুক্তি বাতিলের চেয়ে পুনর্বিবেচনা করাকেই অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে করছে সরকার।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






