আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরান সংকটের জেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউরের দেওয়া তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্সের অন্তত ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ইউরো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আরটিএল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সংঘাতের কারণে বন্ডের মুনাফার হার আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঋণ নেওয়ার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় বাজেটে নতুন করে প্রায় ৩৬০ কোটি ইউরোর বিশাল বোঝা চেপে বসেছে। এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আপাতত কিছু খাতে ব্যয় স্থগিত রাখার পাশাপাশি নতুন আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তুত করছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ফরাসি সরকার দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর প্রশাসন জানিয়েছে, জনগণের সুবিধার্থে নেওয়া সব পদক্ষেপের ব্যয় মূল বাজেট থেকেই সমন্বয় করা হবে। অর্থমন্ত্রী লেসকিউর স্পষ্ট করেছেন যে, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু ব্যয় সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সরাসরি বাজেটে কোনো কাটছাঁট করা হবে না। এছাড়া কাজের প্রয়োজনে যারা নিয়মিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের বোঝা কমাতে আজ সন্ধ্যায় নতুন কিছু বিশেষ সহায়তা পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু।
বর্তমানে ইউরোজোনের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢালাওভাবে নয়, বরং শুধু অতিপ্রয়োজনীয় এবং পরিবহন, মৎস্য ও কৃষির মতো নির্দিষ্ট খাতের জন্যই জরুরি জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়া হবে। তবে সরকারের এসব পদক্ষেপেও রাজনৈতিক চাপ কমছে না। কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকরা জ্বালানি তেলের ওপর বর্তমানে থাকা ২০ শতাংশ ভ্যাট কমানোর জোর দাবি তুলেছেন, যা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে বেশ কঠিন। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে কট্টর বামপন্থিরা তেলের দামের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




