বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই আটকে আছে ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যমতে, দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিই হলো চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপের পাওয়ারপ্যাক, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এবং রংধনু বিল্ডার্স। তবে আদালতের নির্দেশনায় সংসদ সদস্যদের আরও ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবের বাইরে রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ খেলাপিদের থেকে ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকিং কোম্পানি (সংশোধন) আইনের আওতায় নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





