স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর পর ২০০৬ আসরেও ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান একই পথে ছিলেন। তবে ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুস মেরে লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি তার দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশাও শেষ হয়ে যায়। ২০ বছর পর টানা তৃতীয়বারের মতো ইতালির বিশ্বকাপ মূলপর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই ঘটনা আবারও ফুটবলাঙ্গনের আলোচনায় ফিরে এসেছে। ইতালির এই চরম ফুটবল বিপর্যয়ে ভক্তদের অনেকেই একে জিদানের ‘অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত হয়েছে একদিন আগে। বাছাইয়ের প্লে-অফে ৬৬তম র্যাঙ্কিংধারী বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে আবারও হৃদয় ভেঙেছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালির। দেশটির প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘গ্যাজেটা দেল্লো স্পোর্ত’ এই ব্যর্থতাকে ‘তৃতীয় মহাপ্রলয়’ এবং ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’ একে ‘বিশ্বকাপ অভিশাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কারণ ২০০৬ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের পর গত ২০ বছরে বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে ইতালি। ২০১০ ও ২০১৪ আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬ সালেও মূলপর্বে উঠতে ব্যর্থ হলো আজ্জুরিরা।
২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১১০ মিনিটের সময় মাতেরাজ্জিকে ঢুস দিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন জিদান। পরে ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে নেয় ইতালি। সেই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে জিদান জানিয়েছিলেন, মাতেরাজ্জি তার জার্সি ধরে টানলে তিনি ম্যাচ শেষে সেটি দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে মাতেরাজ্জি তার মা-বোনকে নিয়ে অপমানজনক কথা বলায় তিনি তাৎক্ষণিক ওই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মাতেরাজ্জি নিজের দোষ স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তিনি জিদানের মাকে নিয়ে নয়, বরং বোনকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছিলেন। তবে জিদানের শারীরিক প্রতিক্রিয়াটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আজ দুই দশক পর ইতালির এই দুর্দশায় সেই পুরনো স্মৃতি ও ‘জিদানের অভিশাপ’ তত্ত্বই ফুটবল বিশ্বে নতুন করে ঝড় তুলেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






