জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন পশ্চিম সুন্দরবনে সরকারি পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যাওয়া আমিনুর গাজী (৩৪) নামে এক জেলেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিহত আমিনুর গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের আকছেদ গাজীর ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা ফরেস্ট অফিস ঘেরাও করতে রওনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ পাস নিয়ে দুটি নৌকায় করে চারজন জেলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভেতরে কাঁকড়া শিকার করতে যান। আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থানকালে আকস্মিকভাবে বনবিভাগের একটি দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আমিনুর গাজী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদুল আলম বলেন:
“ফরেস্টারের গুলিতেই আমাদের নিরীহ জেলে আমিনুর রহমান নিহত হয়েছেন। সকালে জেলেরা যখন বনে কাজ করছিলেন, তখন ‘মোবারক’ নামে বনবিভাগের এক কর্মকর্তা তাঁদের দেখে সরাসরি গুলি করেন। গুলি করার পর কাছে গিয়ে যখন তিনি দেখেন আমিনুর ছটফট করে মারা যাচ্ছেন, তখন তিনি ও তাঁর দলবল দ্রুত সেখান থেকে ফিরে আসেন।”
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, জেলেরা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। দুপুরে আমিনুরের মরদেহ নদীপথে লোকালয়ে নিয়ে আসা হলে পরিবার ও পুরো গ্রামবাসীর মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। বর্তমানে জনপ্রতিনিধিসহ শত শত গ্রামবাসী মরদেহের সাথে রয়েছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্থানীয় ফরেস্ট অফিস ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোবারকসহ সাতক্ষীরা রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “বনবিভাগের কেউ গুলি চালিয়েছে এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নই। এটি ডাকাতদের গুলিতে নাকি কোস্টগার্ডের গুলিতে ঘটেছে, সেটিও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। তবে যদি সত্যিই বনবিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর গুলিতে সে মারা গিয়ে থাকে, তবে কেন গুলি করা হয়েছে তার কঠোর জবাবদিহি অবশ্যই করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মোবারক নামের এক কর্মকর্তার নাম ছড়াচ্ছে, তবে এখনো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমি নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



