লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর পরও সকালে ওঠার সময় যদি আপনার শরীর ও মন অলস বা ক্লান্ত লাগে, তবে তা কেবল ঘুমের অভাবের কারণেই নয়, বরং এটি আপনার শরীরের অন্তর্নিহিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটছে না—এর পেছনে থাইরয়েডের কর্মহীনতা, ভিটামিনের ঘাটতি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো কারণগুলো দায়ী থাকতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটে না কেন?
জেনে নিন প্রধান কারণগুলো:
থাইরয়েড ভারসাম্যহীনতা: ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাক বা শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অকার্যকর হলে (হাইপোথাইরয়েডিজম) বিপাক ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তির অভাবে সারাদিন ক্লান্ত বোধ করে।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েডের পাশাপাশি অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও ক্লান্তির কারণ হতে পারে, যা কখনো কখনো ওজন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি: শরীরের শক্তি উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের মাত্রা ঠিক থাকা জরুরি। এগুলোর অভাব হলে শরীর খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে না এবং টিস্যুতে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যার ফলে চরম দুর্বলতা দেখা দেয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি ঘুমের এমন একটি ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় ও আবার শুরু হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে বুঝতে না পারলেও, এর ফলে শরীর গভীর ও পুনরুদ্ধারমূলক (Restorative) ঘুমে পৌঁছাতে পারে না।
চাপ এবং উদ্বেগ: মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের কারণে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে, ঘুমের সময়ও মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। শরীর বিশ্রাম নিলেও মন উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে থাকে, ফলে ঘুম হালকা ও খণ্ডিত হয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



