আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: তাইওয়ান ইস্যুতে যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়, তবে সেই যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী পরাজিত হতে পারে— পেন্টাগনের এক অতি গোপনীয় মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ তথ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই ‘ওভারম্যাচ ব্রিফ’-এর বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী তাদের ব্যয়বহুল ও উন্নত প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার কারণেই চীনের সস্তা ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য অস্ত্রের মুখে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সংঘাত শুরু হলে চীন খুব সহজেই যুক্তরাষ্ট্রের ফাইটার স্কোয়াড্রন, বিশাল সব যুদ্ধজাহাজ এবং এমনকি মহাকাশে থাকা উপগ্রহ নেটওয়ার্ক অচল করে দিতে পারে। পেন্টাগনের বিভিন্ন মহড়ায়ও এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য মার্কিন ও পশ্চিমা অস্ত্রভাণ্ডার যথেষ্ট নয় এবং দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতায় তারা চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে।
পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন সম্ভবত ২০২৭ সালের দিকে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা চালাতে পারে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই দাবি করে আসছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চীনের বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও সামরিক আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের প্রতীক এবং নতুনতম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-ও চীনের হামলা থেকে রক্ষা না-ও পেতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র চোখের পলকে মার্কিন রণতরী ধ্বংস করতে সক্ষম। ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিতেও চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






