বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: সংস্কৃতিমনা রাজীব মণি দাস তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মজীবনে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। জানুয়ারি ২০০৯ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তাঁর রচনায় ২৫০টিরও বেশি একক নাটক ও টেলিছবি নির্মিত হয়েছে । শুধু নাট্যকারই নন, তিনি একাধারে একজন ঔপন্যাসিক ও গীতিকবি হিসেবেও সংস্কৃতি অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন ।
বর্তমানে তিনি নাট্যকার সংঘের সাংগঠনিক পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন । স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি নেওয়া রাজীব মণি দাসের প্রথম পছন্দ গীতিকবিতা হলেও, তিনি উপন্যাস ও নাটক লেখায় বেশি মনোনিবেশ করেছেন । তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘বাবা’, ‘তাহার জন্য আর কোনো চিন্তা নাই’, ‘এক পশলা বৃষ্টি’ এবং সাইন্স ফিকশন ‘মি. ব্রেইন’ । অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৫ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘বাবা’ উপন্যাসটি পাঠকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয় ।
উল্লেখযোগ্য নাটক: রাজীব মণি দাসের রচনায় নির্মিত ২৫০টিরও বেশি একক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ‘এ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন’, ‘এবিসি’, ‘প্রডিওসার’, ‘সখি ভালোবাস কারে কয়’, ‘গণিকা এখন আমি’, ‘স্বপ্ন ঘুড়ি’, ‘পেটুক জামাই’, ‘ভাঙ্গন’, ‘লাভ গিফট’, ‘হ্যাকার’, ‘মৌনতার মন ভাঙে না’, ‘পাগলের বিয়ে’, ‘বিয়ের জন্য পাগল’, ‘প্রাণের স্বামী’, ‘বিশ্ব বাটপার’, ‘কালো জামাই’, ‘সুদখোর’, ‘নানা বাড়িতে ঈদ’, ‘সেলিব্রেটি কাউ’, ‘লোকাল গার্ডিয়ান’, ‘মহল্লার জামাই’, ‘ভালোবাসা এই পথে গেছে’, ‘লোকাল সার্ভিস’, ‘মনের মতো বউ চাই’, ‘গুরু’, ‘মাস্তান গার্লফ্রেন্ড’, ‘বিয়ের শান্তি চুক্তি’, ‘মায়ের ইচ্ছা’, ‘হ্যালুসিনেশন’, ‘বাবার স্বপ্ন’, ‘ভুড়ির অহংকার’, ‘সম্পত্তি ভাগ’, ‘জামাই শ্বশুর জুয়াড়ি’, ‘একান্নবর্তী ঈদ’, ‘হয়তো তোমার জন্য’, ‘নেপালে হানিমুন’, ‘ক্রেডিট কার্ড’, ‘ভালোবাসার অন্তদান’ ইত্যাদি ।
এছাড়া তাঁর লেখা ১৫টি ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছে— ‘ট্রাফিক সিগন্যাল’, ‘রং বেরঙ্গের মানুষেরা’, ‘সাত রঙা ভালোবাসা’, ‘পাগলের মেলা’, ‘বিয়াই সাব’, ‘গণক’, ‘ভেজাল কাদের’, ‘মামা ভাগ্নে ম্যারেজ মিডিয়া’, ‘মহল্লার সামছু’, ‘পার্শ্ব চরিত্র’ ইত্যাদি । তিনি ৩০টিরও অধিক টিভি বিজ্ঞাপনের কনসেপ্ট তৈরি ও নির্মাণ করেছেন ।
পুরস্কার ও সম্মাননা: সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজীব মণি দাস অসংখ্যবার শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বাবিসাস অ্যাওয়ার্ড, ট্রাব অ্যাওয়ার্ড, এজেএফবি অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড, বায়োস্কোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড, বিসিআরসি অ্যাওয়ার্ড এবং শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড ।
সামাজিক দায়বদ্ধতা: রাজীব মণি দাস কেবল লেখালেখিতেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি অটিজম নিয়ে কাজ করা এবং সচেতনতা সৃষ্টিতেও অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন । এছাড়াও মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে যাওয়া, অসুস্থ রোগীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানো এবং নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচির সঙ্গে তিনি যুক্ত রয়েছেন । তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘মিস এন্ড মিসেস প্লাস বিউটি শো’, ‘মি. এন্ড মিস গ্ল্যামার লুকস’ এবং আন্তর্জাতিক বাভাসি চলচ্চিত্র উৎসব ।
রাজীব মণি দাস বলেন, “সংস্কৃতি আমার ধ্যান-জ্ঞান, আমার ভালোবাসা ও ভালো লাগার একমাত্র স্থান। আমৃত্যু আমি এই অঙ্গনে থাকতে চাই, লিখতে চাই জীবনের শেষ অবধি,ধন্যবাদ জানাই আমার পাঠক,শ্রোতা ও দর্শকদের ,তাদের ভালোবাসায় আজ আমি সিক্ত” ।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






