বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকারের দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, “এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের বিষয়ে আমরা যেমনটা দেখেছি, চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়েও তা-ই দেখছি। সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া এবং ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
তারেক রহমান বলেন, “জনগণের সমালোচনাকে ভালোভাবে নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুততা ও অনিবার্যতার অজুহাত দেখিয়ে যৌক্তিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন আমরা বিকল্প না থাকার ভান করছি? কেন আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করছি?”
তিনি বলেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশগুলোর জন্য উত্তরণের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিয়মও বলছে, কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা খেলে সময়সীমা নিয়ে নমনীয়তা দেখানো যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বন্দরের বিষয়ে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিত কাজের (রুটিন ওয়ার্ক) অংশ নয়। এগুলো একটি জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে ফেলার এসব সিদ্ধান্ত এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, যাদের কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।”
এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু উত্তরণে ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া এক জিনিস নয়।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দেশ যে সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। কৌশলগত ধৈর্য কখনোই দুর্বলতা নয়।”
তারেক রহমান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “দেশের মানুষের কথা বলার, বেছে নেওয়ার এবং একটি সহজ সত্য নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ এটা। আর সত্যটি হলো– এ দেশের ভবিষ্যৎ তাদের দ্বারাই গঠিত হবে, যারা এখানে বসবাস করেন এবং বিশ্বাস করেন সবার আগে বাংলাদেশ।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






