যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া তহবিল ও ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল অনিশ্চিত থাকায় অর্থসংকটে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী চলমান ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শান্তিরক্ষী সদস্য কমিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার ৯ অক্টোবর আরব নিউজের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থের ঘাটতির কারণে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী চলমান ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় এক-চতুর্থাংশ শান্তিরক্ষী সদস্য কমিয়ে আনা হবে। এ পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া তহবিল এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চিত অর্থায়ন।
একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, আমাদের মোট শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রত্যাহার করতে হবে। এর সঙ্গে থাকবে তাদের সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক কর্মী ছাঁটাই। এর ফলে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষী ও পুলিশ কর্মকর্তা মিশন থেকে প্রত্যাহার করা হবে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনের সবচেয়ে বড় তহবিলদাতা যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে শান্তিরক্ষা তহবিলে ২.৮ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখেছে। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে থেকেই দেশটির কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল, এবং সম্প্রতি আরও ১.৩ বিলিয়ন যোগ হওয়ায় মোট দেনা ২.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে, তবে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে একতরফাভাবে ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিল করেছেন। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিচ্ছে। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তিনি বৈদেশিক সাহায্যে বড় ধরনের কাটছাঁট শুরু করেন।
মালি, লেবানন ও কঙ্গোতে ব্যর্থতা উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিস ২০২৬ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অর্থায়ন সম্পূর্ণ বাতিলেরও প্রস্তাব দিয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তের গোলান হাইটস, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাশ্মীর এবং সুদান-দক্ষিণ সুদানের যৌথ প্রশাসনিক এলাকা আবেইসহ ১১টি অঞ্চলে চলছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংগঠনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের নতুন উপায় অনুসন্ধান করছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ পরিচালক লুই চারবোনো বলেন, এই ঘোষণার অর্থ হলো মানবিক কনভয় ও সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটবে।
আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ সুদানের মতো দেশে শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি হ্রাস করা অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা পাঠাবে, যেখানে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।


