বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ অক্টোবর। নানা নাটকীয়তা শেষে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। তাদেরই একজন তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় আক্ষেপ দেখা গেছে কয়েকজন প্রার্থীর মাঝে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি আর কুশল বিনিময়ের জন্য শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলায় আসেন ক্লাব ক্যাটাগরির কয়েকজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের শানিয়ান তানিম নাভিন, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (বাদল), রূপগঞ্জ টাইগার্সের আদনান রহমান (দীপন), উত্তরার ফায়াজুর রহমান, প্রাইম ধলেশ্বরের আবুশ বাশার, ইয়াং পেগাসাসের একেএম আহসানুর রহমান মল্লিক রনি, এইস ওয়ারিয়র্সের রাকিব উদ্দিন এবং গোল্ডেন ইগলস স্পোর্টিং ক্লাবের মোখছেদুল কামাল।
কয়েকজন প্রার্থী মুখোমুখি হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের। ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের কাউন্সিলর শানিয়ান তানিম বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র তিনদিন বাকি। শুরু থেকেই আমরা নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তামিমরাও ছিলেন, কিন্তু এখন নেই। ওরা থাকলে নির্বাচনটা আরও অংশগ্রহণমূলক হতো। কেন নেই সেটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বোর্ডে তামিমের থাকা উচিত ছিল। আমি অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তারই।’
‘আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে ওনার থাকা উচিত। কারণ, আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছিলাম। যারা যারাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন-শুধু তামিম ইকবাল না, অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, যারা ডিজার্ভ করেন এখানে (পরিচালক হিসেবে) থাকা।’-যোগ করেন শানিয়ান।
ক্যাটাগরি-২ থেকে পরিচালক পদে নির্বাচন করা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাউন্সিলর লুতফর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনের স্বাধীনতা আমি উপভোগ করছি। তামিম-ফাহিমরা থাকলে ভালো হতো, এতে অংশগ্রহণ আরও বাড়ত। কিন্তু কোনো চাপ আমি দেখিনি। বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাই নির্বাচন তো হবেই। সবকিছুর একটা সময় আছে, সেই সময়ের ভেতরে করতে হয়। আমার বিশ্বাস নির্বাচন ঠিক নির্বাচন হিসেবেই হবে।’
সব পক্ষ বিসিবি নির্বাচনে থাকলে ভালো হতো বলে মনে করেন লুতফর, ‘তামিম-ফাহিমরা থাকলে আরও ভালো হতো নির্বাচনটা। সবাইকে নিয়ে ক্রিকেটের উন্নতি করতে হবে। কারও একার পক্ষে উন্নতি করা সম্ভব নয়। যদি সুযোগ থাকত, দুই পক্ষ মিলে নির্বাচন করলে ভালো হতো। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সংগঠক, ক্রিকেটার, সাবেক ক্রিকেটার সবাইকে দরকার।’
তামিমের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত হিসেবে দেখছেন রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর ও পরিচালক প্রার্থী আদনান রহমান। বলেছেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এখন আমরা যারা নির্বাচন করছি। সবাই আমরা সংগঠক ও খেলার মাঠের লোক। ১০-১৫ বছর ধরে আমরা ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত।’
তামিমের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি বেশ পীড়া দিয়েছে ক্যাটাগরি-৩ থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী হওয়া দেবব্রত পালকে। বলেছেন, ‘তামিমের অনুপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অত্যন্ত পীড়া দিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কখনোই কাম্য হতে পারে না।’
বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি হওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন তামিম ইকবাল। গত বুধবার নির্বাচনে ‘ফিক্সিংয়ের’ অভিযোগ তুলে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন তামিম। তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন আরও ১৫ জন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীদের মধ্যে দুজন রফিকুল ইসলাম ও মির্জা ইয়াসির আব্বাস দাবি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের সময় যেন পুননির্ধারণ করা হয়। তবে তাদের ওই দাবির সঙ্গে কেউই সহমত হননি।


