বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: রাজধানীর বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়নি। এর পরিবর্তে দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়কে স্থায়ীভাবে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা অনুসরণ করে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রায় ৬৪৯ কোটি টাকার ২১ তলা ভবন প্রকল্পটি উত্থাপন করা হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ ভবন ও সচিবালয় পাশাপাশি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামো সাজানোর পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন এলাকায় সচিবালয় স্থানান্তর করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নতুন নকশার কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে শেরেবাংলা নগরের সাবেক বাণিজ্য মেলার খেলার মাঠসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নকশার কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়টি গত ১১ বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে। ২০১৫ সালে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে তোলা হলেও তৎকালীন সরকারের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থায়ন সংকটের অজুহাতে তা আলোর মুখ দেখেনি। লুই আই কানের মূল নকশায় সংসদ ভবনের পাশেই সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই মূল নকশায় ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে আগারগাঁও-শেরেবাংলা নগর এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তোপখানা ও আব্দুল গণি রোড সংলগ্ন বর্তমান সচিবালয় এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হয়ে পড়েছে। ভবনগুলো পুরনো এবং সেখানে নতুন কোনো ভবন নির্মাণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। শেরেবাংলা নগরে প্রায় ৩২ একর জমিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মিত হলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা এখনো কোনো লিখিত প্রস্তাব পায়নি, স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






