আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আবারও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের লাশের অপেক্ষায় ছিলেন।
গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় ইমাম আল-শাফি মসজিদের কাছে সারিবদ্ধভাবে রাখা লাশ ও দেহাবশেষগুলোর ওপর ফিলিস্তিনি পতাকা মুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বজনরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে নিহতদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। গাজার সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সম্প্রতি রহিম, বালাওয়ি, মালাকা ও কানবুর পরিবারের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলো থেকে এসব লাশ উদ্ধার করেছেন। তবে ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় অল্প কয়েকটি খননযন্ত্র ও পুরোনো সরঞ্জাম দিয়েই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
নিহত স্বজনদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মরিয়ম হাসান আল-বালাওয়ি বলেন, “আমার স্বামী ও সন্তানরা নিহত হয়েছেন। একমাত্র জীবিত মেয়ে মালাক ছাড়া আর কেউ নেই। আমার পুরো জীবনটাই শেষ হয়ে গেছে।” দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের লাশ উদ্ধার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তাদের যখন বের করে আনা হলো, মনে হলো আমার বুকটা একটু হালকা হয়েছে।”
আরেক ফিলিস্তিনি জাদাল্লাহ রহিম ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেখানে তার পরিবারের ৩২ সদস্যের লাশ ও দেহাবশেষ রাখা ছিল। ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি হামলায় তারা সবাই নিহত হন। জাদাল্লাহ জানান, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের বেশি শিশু এবং প্রায় ১০ জন নারী ছিলেন। ওই বাড়িটিতে সেদিন ৩৩ জন ছিলেন, যাদের মধ্যে অলৌকিকভাবে কেবল একটি ছোট মেয়ে বেঁচে যায়।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধার কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে গাজা সিটি এবং উত্তর ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংস হওয়া বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে। এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে ৫৪টি ভবন থেকে প্রায় ৩৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












