আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান বিরোধে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি এই দুই দেশের নিজেদের মধ্যেই সমাধান করা উচিত। তবে এই সুযোগে দ্বীপটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ‘১০০ কোটি ডলার’ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ডেনমার্কের ঐতিহাসিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’ তবে তিনি ডেনমার্কের সমালোচনা করে বলেন, ডেনমার্ক সবসময় গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করেছে এবং তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষেত্রবিশেষে নিষ্ঠুর।
১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার আলাস্কা বিক্রির (৭২ লাখ ডলার) উদাহরণ টেনে পুতিন একটি হিসাব দাঁড় করান। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের আয়তন এবং স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে তিনি বলেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। পুতিন মনে করেন, এই অর্থ খরচ করার সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে সরে এলেও একটি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর এই কূটনৈতিক ফাটল মস্কো উপভোগ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনকে ডেনমার্কের সহায়তা প্রদান মস্কোকে ক্ষুব্ধ করেছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেছেন, সম্পদে ভরপুর এই দ্বীপটি ডেনমার্কের কোনো ‘স্বাভাবিক অংশ’ নয়। মস্কো ট্রাম্পের দাবির প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল, কারণ ট্রাম্প বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






