আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের নিখোঁজ দুই ক্রুসহ মোট ছয় সদস্যেরই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর পাশাপাশি চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক হামলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সেন্টকম জানিয়েছে, পশ্চিম ইরাকে মাঝআকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং এতে থাকা ৬ মার্কিন সেনার সবারই মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত অপর বিমানটি লেজের অংশ হারানো সত্ত্বেও ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “যুদ্ধ মানেই নরক।” সেন্টকমের প্রাথমিক তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলায় এটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তবে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার চাপে ইরানের জনগণ একদিন নিজেদের সরকারের পতন ঘটাবে, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় আমেরিকানদের মধ্যে সমর্থন কমছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও সাফল্য প্রমাণের চেষ্টা করছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




