আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ব্রাজিলের আমদানিপণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২২ জুলাই থেকে নতুন এই শুল্কনীতি কার্যকর হতে পারে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘোষণা দেন। তবে এই শুল্কের আওতা থেকে গোশত, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বেশ কিছু পণ্যকে বাদ রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোও এই শুল্কের বাইরে থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জানান, ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের কারণে মার্কিন কর্মী ও উৎপাদকরা গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় মূলত ডিজিটাল বাণিজ্য ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্স’ (PIX)-এর কারণে তৈরি হওয়া ‘অন্যায্য’ প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, পিক্সের মতো ব্যবস্থার কারণে তাদের ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাই ব্রাজিল যেভাবে মেক্সিকো ও ভারতকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রও তেমন অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আলোচনার পথ খোলা রাখলেও নিজেদের উদ্বেগের দ্রুত সমাধান চায়। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কারোপের পর ব্রাজিলের কাছ থেকে পালটা কোনো ব্যবস্থা আশা করছে না, তবে যেকোনো চাপে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক শুনানিতে অনুদারপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো শুল্কারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তি দেন, এতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, গত বছর ফ্লাভিওর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান চেষ্টার বিচারের (যিনি বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন) জেরে ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র শুল্কারোপ করেছিল, যা পরে লুলার কূটনৈতিক পদক্ষেপে প্রত্যাহার করা হয়। এবার নতুন এই ঘোষণা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আবারও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর












