লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়া—বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারী আয়রনের ঘাটতিজনিত এসব সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই নিয়মিত আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা ট্যাবলেট গ্রহণ করেন, কিন্তু এরপরও রক্তাল্পতার সমস্যা কাটে না। পুষ্টিবিদরা বলছেন, কেবল ওষুধ খেলেই হবে না, শরীরের আয়রন শোষণের ক্ষমতা এবং খাদ্যাভ্যাসের ভুলগুলোও শুধরাতে হবে। অন্যথায় এটি ‘ফুটো বালতিতে পানি ভরা’র মতোই নিষ্ফল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ্লিমেন্ট ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরের ‘দুর্বল শোষণ ক্ষমতা’।
শোষণে বাধা: পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যাওয়া, অন্ত্রের প্রদাহ কিংবা ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে শরীর আয়রন ট্যাবলেট ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না।
চা-কফি: খাবারের সাথে বা ঠিক পরপরই চা-কফি পান করলে এতে থাকা পলিফেনল ও ট্যানিন আয়রন শোষণে বাধা দেয়।
ক্যালসিয়াম: পনির বা দুধের মতো ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার আয়রন ট্যাবলেটের সঙ্গে খেলে শোষণে ব্যাঘাত ঘটে।
নারীদের আয়রন ঘাটতির মূল কারণ: শুধুমাত্র ওষুধ খেয়ে ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয় যদি মূল কারণগুলো সমাধান করা না হয়। নারীদের ক্ষেত্রে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. ভারী মাসিক রক্তপাত।
২. জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা টিউমার।
৩. বারবার গর্ভাবস্থা ও প্রসব পরবর্তী সুস্থতায় দেরি।
৪. গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে লুকানো রক্তপাত।
৫. ঘন ঘন রক্তদান।
ফাংশনাল আয়রন ডেফিসিয়েন্সি কী? অনেক সময় শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকে, কিন্তু তা ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। একে বলা হয় ‘ফাংশনাল আয়রন ডেফিসিয়েন্সি’।
কারণ: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, স্থূলতা, অটোইমিউন রোগ বা সংক্রমণের কারণে শরীরে ‘হেপসিডিন’ নামক হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন আয়রনকে কোষে আটকে রাখে, ফলে তা রক্তপ্রবাহে মিশতে পারে না।
সমাধান: ভিটামিন ‘এ’ সঞ্চিত আয়রন মুক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ফোলেট, ভিটামিন বি১২ এবং কপার লোহিত রক্তকণিকা গঠনে জরুরি।
খাবারের সঠিক নিয়ম: কেবল সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর জোর দিতে হবে।
কী খাবেন: পালং শাক, মসুর ডাল, ছোলা, টোফু, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ।
ম্যাজিক কম্বিনেশন: আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার (লেবু, আমলকী, টমেটো, বেল পেপার) খেলে শরীর দ্রুত আয়রন শোষণ করতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






