আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা ম্লান করে দিল নতুন বছরের আনন্দ উৎসবকেও। কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রুশ নিয়ন্ত্রিত খেরসন প্রদেশের খোরলি গ্রামে নববর্ষ উদযাপনের সময় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ।
খেরসনের রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভর্নর ভ্লাদিমির স্যালদো টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘরে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে খোরলি গ্রামের একটি হোটেলের লনে সমবেত জনতার ওপর ৩টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আছড়ে পড়ে। বিবৃতিতে বলা হয়, নববর্ষ উপলক্ষে মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল। হামলার ফলে পুরো লন এবং হোটেলে আগুন ধরে যায়। তিনটি ড্রোনের মধ্যে অন্তত একটিতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গভর্নর স্যালদোর দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কারণ, সন্ধ্যার দিকেই একটি গোয়েন্দা ড্রোন এলাকাটি জরিপ করে গিয়েছিল। উৎসবের ভিড় লক্ষ্য করেই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্যালদো বলেন, “২০১৪ সালে ওডেসায় ইউক্রেনের উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ২৪ জন সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীকে একটি ভবনে আটকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল। আজকের এই সহিংসতা কেবল সেই ঘটনার সঙ্গেই তুলনীয়। জেলেনস্কি যে শান্তির কথা বলেন, তার প্রকৃত রূপ আসলে এটাই।”
অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, নববর্ষের রাতে মস্কোতেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনী অন্তত ৯টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছিল, তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






