ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। আর এমন নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নতুন মাত্রা পেল।
সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে, বুধবার (১৫ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমি সিআইএকে দুটি কারণে অনুমোদন দিয়েছি—প্রথমত, ভেনেজুয়েলা তাদের জেলখানার বন্দিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে, দ্বিতীয়ত, দেশটি মাদক পাচারের অন্যতম উৎস।
নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন গোপন নির্দেশনা সিআইএকে লেথাল অপারেশন বা প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়। এর আওতায় সংস্থাটি ক্যারিবীয় অঞ্চল জুড়েও নানা গোপন তৎপরতা চালাতে পারবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কৌশলের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, তার প্রশাসন সমুদ্রে মাদক আটকাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, এখন স্থলপথে পাচার রোধে অভিযান বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসন মাদুরোর গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণাও দিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের অনুমোদনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত আমাদের তেলের সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে শাসন পরিবর্তনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ মিশন বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানাবে।
এর আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক পাচারের কেন্দ্র বলে অভিযোগ করেছিলেন, যদিও মার্কিন নথিপত্রে মেক্সিকোকেই এই মাদকের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


