লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি মূলত এমন একটি জটিল রোগ, যেখানে শরীরের অস্বাভাবিক কোষগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। স্তন, ফুসফুস, প্রোস্টেট ও ব্লাড ক্যান্সার বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাণঘাতী রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে আশার কথা হলো, প্রকৃতির ভাণ্ডারেই রয়েছে এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান, যা এই মরণব্যাধিকে দূরে রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ক্যান্সার-প্রতিরোধী গুণসম্পন্ন খাবার যুক্ত করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
ক্যান্সার প্রতিরোধে খাদ্যতালিকায় ব্রকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে থাকা ‘সালফোরাফেন’ শরীরকে বিষমুক্ত করতে এবং টিউমারের বিকাশ রোধে সহায়তা করে। পাশাপাশি বেরি, সাইট্রাস ফল ও ডালিমে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল থাকে, যা কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, টমেটোতে থাকা লাইকোপিন প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ মসলা যেমন হলুদ, রসুন ও পেঁয়াজ কেবল স্বাদই বাড়ায় না; হলুদের কারকিউমিন এবং পেঁয়াজ-রসুনের সালফার যৌগ প্রদাহ কমিয়ে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
খাবারের পাশাপাশি পানীয় এবং শস্যজাতীয় খাবারও ক্যান্সার প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয় পানীয় গ্রিন টি-তে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করতে পারে। এছাড়া আঁশসমৃদ্ধ আস্ত শস্য ও ডাল জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তাই সুস্থ থাকতে ও মরণঘাতী এই রোগ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারগুলো খাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



