লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা একটি পরিচিত নাম। গলার কাছে ফোলা ভাব, মাঝেমধ্যে ব্যথা বা জ্বালা, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা ঘুমের সমস্যা—এসব লক্ষণ অনেকেই অবহেলা করেন। থাইরয়েড সাধারণত ভয়ের কারণ না হলেও, থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন শুরু হলে তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বজুড়ে থাইরয়েড ক্যানসার নিয়ে চলা গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণা বলছে, হরমোনজনিত নানা কারণে পুরুষের চেয়ে নারীদের থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি।
কেন নারীদের ঝুঁকি বেশি, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসারের মূল সূত্রপাত হয় যখন থাইরয়েড কোষের ডিএনএ বা রাসায়নিক গঠন বদলে যায়। এর জন্য অনেকটাই দায়ী নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোন, যা থাইরয়েড কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বয়ঃসন্ধিকাল কিংবা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামা এবং হরমোনের গোলমালের কারণে কোষ বিভাজন শুরু হতে পারে, যা পরে ক্যানসারের রূপ নেয়। এছাড়া পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস এবং খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিনের অভাবও ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত ৪০ বা ৪৫ বছরের পর নারীদের এই ঝুঁকি বাড়লেও, বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে ৩০ বছর বয়সের পরও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। গলার স্বরে পরিবর্তন, অকারণে ওজন হ্রাস-বৃদ্ধি, গিলতে কষ্ট হওয়া বা সংক্রমণ ছাড়াই একটানা কাশি—এগুলো এই রোগের লক্ষণ হতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়যোগ্য। এ বিষয়ে ক্যানসার চিকিৎসক শুভদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘এ রোগ সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে ধরা পড়ে। রোগ যে পর্যায়েই ধরা পড়ুক না কেন, অস্ত্রোপচারে সেরে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। স্ক্যান করে যদি দেখা যায়, শরীরের অন্যত্র রোগ ছড়িয়েছে, রেডিও থেরাপি করে চিকিৎসা করা হয়। পুরো চিকিৎসার পর রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম৷’ তবে তিনি সতর্ক করে জানান, অনেক বেশি বয়সে গিয়ে ধরা পড়লে ভয়ের কারণ থেকেই যায়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






