ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পরে এবার পর্তুগালের সংসদে জনসমক্ষে মুখ আবৃত করে এমন পোশাক, বিশেষত বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ করার একটি আইনি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে দেশটিতে মুখমণ্ডল ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ হলো। নিষিদ্ধ বলতে এখানে বলা হয়েছে এমন পোশাক পরা যাতে করে সমস্ত মুখমণ্ডল ঢাকা থাকে এমন পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অর্থডক্স ডানপন্থী সরকারে প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনাকীর্ণ স্থানে এমন কোনো পোশাক পরা যাবে না যা মুখমণ্ডল সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে যা মানুষের পরিচয় শনাক্তে দ্বিধার সৃষ্টি করে। আইন অমান্য করলে রাখা হয়েছে জরিমানার বিধান। আইন অনুযায়ী, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২০০ ইউরো থেকে ৪ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের পরিচয় শনাক্তকরণ সহজ করার যুক্তিতে আইনটি পাস করা হয়েছে। মোটকথা নিরাপত্তা জনিত কারণেই আমরা এই আইনটি উপস্থাপন করেছিলাম। তবে, আইনটিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে — যেমন আপনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী বা চিকিৎসাজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তবে বলা হয়েছে যদি নিরাপত্তা জনিত কোন কারণ হয় তাহলে অবশ্যই সেটা মানতে হবে।
সংসদে আইনটি অনুমোদনের পর এখন এটিকে সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বামপন্থী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সরকারি দল এই আইনকে নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও, বিরোধীরা একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে কঠোর সমালোচনা করেছে।
বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেমন ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশে বোরখা বা মুখ ঢাকা পোশাক জনসমক্ষে নিষিদ্ধ। এখন নতুন করে যুক্ত হল আটলান্টিক পাড়ের দেশ পর্তুগালে।


