আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি এ বছরের শেষে আসছে না। সংস্থাটি সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নতুন রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে থাকা অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী কিস্তি মার্চ বা এপ্রিলে আসতে পারে। তবে এতে বাংলাদেশের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং এটি ইতিবাচকই হবে।
তিনি আরও বলেন, আইএমএফ আপাতত ষষ্ঠ কিস্তি স্থগিত রেখে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি একসঙ্গে ছাড়তে চায়, যার পরিমাণ হবে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। এর আগেও তৃতীয় কিস্তির পূর্বশর্ত পূরণে বিলম্বের কারণে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড় করেছিল আইএমএফ।
ড. সালেহউদ্দিন জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে ষষ্ঠ কিস্তির পর্যালোচনা সম্পন্ন নাও হতে পারে। কিস্তি ছাড়ের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া প্রায় সব শর্তই পূরণ হয়েছে। তবে দাতা সংস্থাগুলো নিশ্চিত হতে চায় যে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নতুন রাজনৈতিক সরকারও বজায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইএমএফকে আশ্বস্ত করেছি যে, পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক না কেন, সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’ আগামী ২৯ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে দুই সপ্তাহের পর্যালোচনা করবে। গত জুন পর্যন্ত অগ্রগতি মূল্যায়নের পর কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থ উপদেষ্টার বলেন, কিস্তি অনুমোদনে কিছুটা বিলম্ব হলেও এতে অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক ভারসাম্য এখন যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটনের বৈঠকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের চলমান সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। এ বছরের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের সময় ঋণের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো এবং পরিমাণ ৮০০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করা হয়। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।


