টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আজ (৮ অক্টোবর) বুধবার রাতে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার পর থেকে টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদনগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০৬ সালে ১৭০ দশমিক ৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের পর থেকেই ব্রিজটির পূর্ব ও পশ্চিম দিকের সংযোগ সড়ক বারবার ধসে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ জুলাই একই জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল।
এই ব্রিজ দিয়েই চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন শহরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত ও বাজারে যাতায়াত করে। এছাড়া সন্তোষ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর একমাত্র যোগাযোগ পথ এটি। প্রতিদিন এখান দিয়ে শতাধিক ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত যানবাহন চলাচল করে কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের প্রভাবশালীদের কারণে নদীতে অবৈধ ড্রেজিং করা হয়। এর ফলেই প্রতিবছর সংযোগ সড়ক ধসে যায়। এখন আবারও নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক আব্দুল হাই বলেন, আজ ভোরে যাত্রী নিয়ে এসে দেখি রাস্তা ভেঙে গেছে। বিকল্প পথ না থাকলে আমাদের গাড়ি চালানো বন্ধ হয়ে যাবে।
কাতুলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান বলেন, নদীর পানির চাপ বেড়ে সংযোগ সড়ক ও পাশের কয়েকটি বাড়িতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়বে।
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজকের মধ্যেই প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই ব্রিজটি ভেঙে পড়লে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।


