আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পূর্ব ইউক্রেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত শহর পোকরোভস্ক দখলের দাবি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। সোমবার (১ ডিসেম্বর) মস্কো এই শহরটি দখলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। যদি এই দাবি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়, তবে এটি রাশিয়ার জন্য যুদ্ধের অন্যতম বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছে এবং একে রাশিয়ার ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে।
রাশিয়ার দাবির সত্যতা প্রমাণে ক্রেমলিন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে পোকরোভস্কের সিটি সেন্টারে রুশ সেনাদের রাশিয়ার পতাকা টাঙাতে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত রবিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সে সময় সেনাপ্রধান ভেলারি গেরাসিমোভ পুতিনকে শহরটি দখলের তথ্য জানিয়েছিলেন।
ইউক্রেন রাশিয়ার এই দাবিকে ‘অপতথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির অপতথ্য প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহ এ ধরনের তথ্য ছড়াবে।”
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি মূলত পশ্চিমাদের বিভ্রান্ত করার কৌশল। সোমবারের শুরুতে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছিল, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তাদের সেনারা পোকরোভস্ক ও আশপাশের অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং শত্রুবাহিনীকে প্রতিহত করে যাচ্ছে।
পোকরোভস্ক শহরটি সড়ক ও রেল যোগাযোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের তীব্র লড়াইয়ে এখানে উভয় পক্ষেরই অসংখ্য সেনা হতাহত হয়েছে। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউক্রেন আগেই রসদ সরবরাহের বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ঠিক যেদিন রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করল, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন ও ইউক্রেনীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






