লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শীতকাল মানেই ঝলমলে রোদ, উষ্ণ পানীয় এবং আরামদায়ক খাবার। কিন্তু হাড়কাঁপানো এই শীতে সর্দি-জ্বর ছাড়াও বড় একটি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় হৃদরোগ। চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাপমাত্রা কমলে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে চায়। এ সময় সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডে অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্ত ঘন হয়ে যায়, ফলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ে, যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখার উপায় ও খাবার:
১. উপকারী ফ্যাট: রান্নায় চিনাবাদাম, সূর্যমুখী বা সরিষার তেল ব্যবহার করুন। এগুলো মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সরবরাহ করে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। এ ছাড়া স্যামন বা সার্ডিন মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাট হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। নিরামিষাশীরা আখরোট, চিয়া বীজ বা তিসির বীজ খেতে পারেন।
২. এক মুঠো বাদাম: প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম, আখরোট বা চিনাবাদাম খেলে শরীরে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন ই পাওয়া যায়। বাদামে থাকা ‘আরজিনিন’ রক্তনালী শিথিল করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
৩. আস্ত শস্য: সাদা চাল বা ময়দার বদলে বাদামি চাল, ওটস, বার্লি, বা গমের মতো আস্ত শস্য বেছে নিন। এগুলোর ফাইবার রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪. রঙিন ফল ও সবজি: খাবারের প্লেটের অর্ধেকটা রাখুন শাক-সবজি ও রঙিন ফলের জন্য। টমেটো, বেরি, মূলা বা আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীকে শক্তিশালী করে।
৫. খাবারের সময়: বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দিনের খাবার শেষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






