লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: শরীর ফিট রাখতে কিংবা পেশি গঠন করতে অনেকেই খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু হুট করে প্রোটিন গ্রহণ বাড়ালে অনেকেরই অলসতা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হয় যে, প্রোটিনই এই সমস্যার মূল। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, সমস্যাটি প্রোটিনের নয়, বরং প্রোটিন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্য উপাদানগুলোর ভারসাম্য বজায় না রাখার কারণেই শরীর খারাপ লাগে। টিস্যু মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশি তৈরিতে প্রোটিন অপরিহার্য হলেও এটি গ্রহণের সময় মানুষ সাধারণত ৩টি মারাত্মক ভুল করে থাকে।
১. পর্যাপ্ত পানি পানের অভাব প্রোটিন বিপাকের ফলে শরীরে ‘ইউরিয়া’ নামক বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, যা কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যখন প্রোটিন গ্রহণ বাড়ানো হয়, তখন এই বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য কিডনির ওপর চাপ পড়ে। এ সময় যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয়, তবে শরীর এই বর্জ্য পরিষ্কার করতে হিমশিম খায়। ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, প্রস্রাবের গাঢ় রং এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, প্রোটিন বাড়ালে অবশ্যই পানির পরিমাণও বাড়াতে হবে।
২. ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলা অনেকে প্রোটিন বাড়াতে গিয়ে প্লেট থেকে ফাইবারযুক্ত খাবার সরিয়ে ফেলেন, আবার অনেকে প্রোটিন শেক বা পাউডারের ওপর নির্ভর করেন যাতে ফাইবার নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত ফাইবার ও পানি ছাড়া হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার অনিবার্য ফল কোষ্ঠকাঠিন্য। তাই প্রোটিনের সঙ্গে ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য ও ডাল জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি, যা অন্ত্রকে সচল রাখে।
৩. ফল ও শাক-সবজি না খাওয়া কিছু প্রাণিজ প্রোটিন শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই অ্যাসিডকে নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ করতে শরীরের প্রয়োজন প্রচুর পটাশিয়াম, যার প্রধান উৎস হলো ফল ও শাক-সবজি। প্রোটিন ডায়েটে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে পেট ফাঁপা, পেশিতে ক্র্যাম্প, রক্তচাপের ওঠানামা এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ফল ও সবজি রাখা বাধ্যতামূলক।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






