বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বলিউড পেরিয়ে হলিউডেও নিজের শক্ত আসন গেড়েছেন ‘দেশি গার্ল’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তার যাত্রা বেশ প্রশংসিত। সম্প্রতি নিজের প্রযোজনা সংস্থা খোলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ খুলেছেন এই গ্লোবাল আইকন। তিনি জানিয়েছেন, মূলত নতুন এবং প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতাদের সহায়তা করার তাগিদেই তার এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। এর পাশাপাশি হলিউডে নিজের ক্যারিয়ারের পরিধি ও ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছাও জোরালোভাবে প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২৪ জুন) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের প্রযোজক সত্তা ও বর্তমান বিনোদন জগত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে নিজের প্রতিভাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অবসেশন’ সিনেমাটির উদাহরণ টেনে এই অভিনেত্রী বলেন, “কারও মাথায় যদি সত্যিই দারুণ কোনো সৃজনশীল ভাবনা থাকে, তবে তা নিজেই শুট করে ইউটিউবে প্রকাশ করা উচিত। কে জানে, হয়তো সেই সাধারণ উদ্যোগটিই ‘অবসেশন’-এর মতো কোনো সফল সিনেমায় রূপ নিতে পারে!”
প্রিয়াঙ্কার মতে, বিনোদন দুনিয়ায় কাজ করার জন্য বর্তমান সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ এখন বড় বাজেট বা পরিচিতির চেয়ে ‘ভাবনা’ বা আইডিয়াই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। তবে তার শুরুর দিকের পথচলাটা মোটেও এত সহজ ছিল না। তিনি যখন প্রথম এই রুপালি জগতে পা রাখেন, তখন তার কোনো পূর্বপরিচিতি বা যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না। বাবা-মা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক হওয়ায় সিনেমা জগতে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। তখনকার দিনে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা সংযোগ ছাড়া এই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নেওয়াটা রীতিমতো এক কঠিন যুদ্ধ ছিল বলে স্মরণ করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকেই তাকে বলেছিলেন যে, ভাষার পার্থক্যের কারণে ভারতীয় সিনেমা কখনোই হলিউডের মতো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হবে না। হিন্দি, তেলুগু বা মারাঠি ভাষায় তৈরি সিনেমা বিশ্বের সবাই বুঝবে না—এমন প্রচলিত ধারণাই তখন রাজত্ব করত। তবে এখন দিন বদলেছে এবং মেধা থাকলে সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা।
সম্প্রতি জনপ্রিয় অ্যাকশন সিরিজ ‘সিটাডেল’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর হলিউডে নিজের কাজের পরিসরকে আরও বড় মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, “হিন্দি সিনেমায় আমি ইন্ডাস্ট্রির সেরা সব পরিচালক ও অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, বৈচিত্র্যময় সব চরিত্রে নিজেকে বারবার ভেঙেছি। কিন্তু আমেরিকায় ইংরেজি ভাষার প্রজেক্টগুলোতে কাজ করার ক্ষেত্রে এখনও আমার সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটি সেভাবে আসেনি।”
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






