লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন কেবল মনের ওপরই নয়, শরীরের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে একজন স্বামীর অসচেতনতা, অবহেলা বা ভুল আচরণের কারণে একজন নারী দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগতে পারেন। ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খানের বরাতে উঠে এসেছে দাম্পত্য জীবনের এমন কিছু ভুল, যা নারীর স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ।
সংসারের সব কাজ, সন্তান পালন এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সেবাযত্ন—সব মিলিয়ে নারীর কাঁধে থাকে পাহাড়সম দায়িত্ব। ডা. সাইফ হোসেন খান জানান, যখন কোনো স্বামী এই পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেন না বা স্ত্রীকে মানসিক সমর্থন দেন না, তখন নারী তীব্র মানসিক চাপে ভোগেন। অনেক পুরুষ না বুঝেই স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করেন, যা নারীর বিষণ্নতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব এবং নিজের যত্ন নিতে না পারার কারণে অল্প বয়সেই অনেক নারীর চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়ে। এতে স্বামী আগ্রহ হারিয়ে ফেললে নারী আরও বেশি হীনম্মন্যতায় ভোগেন। এছাড়া অনেক পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে অনীহা দেখান। ফলে বছরের পর বছর নারীদের হরমোনভিত্তিক পিল বা ইনজেকশন নিতে হয়। এর প্রভাবে ওজন বৃদ্ধি, হাড় ক্ষয় এবং শরীরের লাবণ্য হারানোর মতো ঘটনা ঘটে।
মানসিক চাপে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া বিষণ্নতায় আক্রান্ত নারীরা অনেক সময় অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন। শরীরচর্চার সুযোগ না পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপের কারণে শরীরে ডায়াবেটিসের মতো মারণরোগ বাসা বাঁধতে পারে।
সবচেয়ে সংবেদনশীল ও ভয়ের বিষয় হলো যৌনবাহিত রোগ। স্বামীর বহুগামিতা বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে স্ত্রী এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস বি ও সি, গনোরিয়া এবং সিফিলিসের মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞের মতে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (HPV) সংক্রমণের জন্য জরায়ুমখে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে, যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে দায়ী থাকে সঙ্গীর অসতর্কতা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






