আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দুই দিনের ভারত সফরে এসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, মার্কিন চাপ সত্ত্বেও তাঁর দেশ ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের পর পুতিন এই প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে মস্কো সর্বাত্মক সহায়তা করছে।

শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। যদিও যুদ্ধবিমান সরবরাহসহ বড় কোনো সামরিক চুক্তির ঘোষণা আসেনি, তবে দুই দেশের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, নাবিকদের প্রশিক্ষণ, নতুন বাণিজ্য পথ এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতসহ একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত প্রথম থেকেই শান্তির পক্ষে থেকেছে। ইউক্রেন সংকটের পর থেকে আমাদের মধ্যে সব সময় কথা হয়। পারস্পরিক বিশ্বাসই আমাদের সম্পর্কের বড় শক্তি।” তিনি আরও বলেন, “ভারত নিরপেক্ষ নয়, বরং শান্তির পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট।” মোদি জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে এবং রাশিয়ায় ভারতের দুটি নতুন দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুতিন বলেন, “রাশিয়া আর ভারতের সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত। আমাদের মধ্যে বাণিজ্য এখন রুবল আর ভারতীয় টাকায় চলছে। আমরা মেক ইন ইন্ডিয়া পরিকল্পনায় সহযোগিতা করব।”
তিনি ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, “ছয়টির মধ্যে দুটি ইউনিট গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এটি ভারতের স্বচ্ছ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখবে।” পুতিন ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর এবং ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েও ভারতের সঙ্গে কাজ করার কথা জানান।
সফরের শেষ পর্যায়ে পুতিন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন এবং শুক্রবার রাতেই দিল্লি ত্যাগ করেন।বাংলাফ্লো/এফআইআর






