লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ফ্যাটি লিভার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি নীরব মহামারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের মতে, প্রায় ১০ কোটি আমেরিকান অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এর প্রধান কারণ হলেও, বর্তমান জীবনযাপন ও বিপাকীয় সমস্যার কারণে অধূমপায়ী বা মদ্যপান করেন না এমন মানুষের মধ্যেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা প্রাকৃতিক উপায়ে লিভার সুস্থ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিনের ডায়েটে বিশেষ ৩টি পানীয় যুক্ত করে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
১. গ্রিন টি (Green Tea): গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউজ। এতে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ফ্রি র্যাডিকেল ধ্বংস করে। ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি কমে। এটি লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও অত্যন্ত কার্যকরী।
২. আদা চা (Ginger Tea): আদায় ৪০০টিরও বেশি জৈব সক্রিয় যৌগ এবং ৪০টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১২ সপ্তাহ প্রতিদিন ২ গ্রাম আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং লিভারের প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। দিনে এক কাপ আদা চা শুধু লিভারের চর্বিই কমায় না, বরং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, বমি ভাব কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
৩. অ্যাপল সাইডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar): অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই পানীয়টি ফ্যাটি লিভার কমাতে দারুণ কার্যকর। ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের প্লাজমা গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে। গ্লুকোজ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের উন্নতি ঘটিয়ে এটি লিভারকে সুস্থ রাখে। সতর্কতা: অ্যাপল সাইডার ভিনেগার সরাসরি পান করবেন না। এটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে এবং দাঁতের এনামেল রক্ষার্থে স্ট্র দিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






