বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পরিবার মৃত্যুর এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি আলোকচিত্রীদের কাতারে রঘু রাই ছিলেন প্রথম সারিতে। বড় ভাই এস. পলের হাত ধরে তিনি ফটোগ্রাফির জগতে পা রাখেন এবং পরে ১৯৬৫ সালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় যোগ দেন। এই পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির ঘুরে বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনধারা ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য, ১৬ ডিসেম্বরে বিজয়ের পর বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরা ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন।
তাঁর তোলা এই ছবিগুলো এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ছাড়াও ১৯৮৪ সালে ভারতের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় তাঁর তোলা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ ছাড়া তাঁর ক্যামেরার লেন্সে একসময় বন্দি হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা ও মাদার তেরেসাসহ আরও অনেকেই, যা তাঁকে কর্মজীবনে একজন আলোকচিত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছিল।
কিংবদন্তি এই আলোকচিত্রীর মৃত্যুতে ভারতের শিল্প ও সাংবাদিকতা জগতে এক দীর্ঘ ও উজ্জ্বল যুগের অবসান হলো। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তোলা ছবির জন্য ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭২ সালে সম্মান জানিয়ে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



