ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান তোলায় হাদাশ জোটের ফিলিস্তিনপন্থি দুই সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পার্লামেন্টে তীব্র উত্তেজনা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ট্রাম্প ইসরায়েলি সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় হাদাশ–তাল জোটের দুই এমপি আইমান ওদেহ ও ওফের কাসিফ “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিন” লেখা একটি কাগজ উঁচিয়ে ধরেন। এতে ট্রাম্পের বক্তব্য সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দুই এমপিকে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং তাদের হাতে থাকা কাগজ ছিনিয়ে নেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আইমান ওদেহ লেখেন, আমার একমাত্র অপরাধ হলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো—একটি দাবি যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহু আগেই স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সত্য বলার জন্যই আমাকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওফের কাসিফও এক্সে লেখেন, আমরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে যাইনি, আমরা ন্যায়ের দাবি তুলেছিলাম। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, দখলদারিত্বের অবসান এবং সমান অধিকারের মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি সম্ভব।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে জার পুনর্গঠন ও শান্তি প্রচেষ্টায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ঐতিহাসিক যুগের সূচনা ঘোষণা করে বলেন, বলপ্রয়োগে যা জয় করা সম্ভব ছিল, ইসরায়েল তা জয় করেছে। এখন সময় এসেছে যুদ্ধক্ষেত্রের সেই বিজয়কে সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করার।
হাদাশ জোট দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সরকারের সামরিক নীতি ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈষম্যের বিরোধিতা করে আসছে। আইমান ওদেহ আরব নাগরিকদের অধিকার, নারীর কর্মসংস্থান এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। অপরদিকে, ২০১৯ সাল থেকে সংসদে থাকা ওফের কাসিফ নিজেকে শান্তি ও দখলদারিত্ববিরোধী রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো গভীর। একদিকে ট্রাম্প শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে সংসদের ভেতর থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে বিভক্তি প্রকট হয়ে উঠছে।


