মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যম ও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান সত্ত্বেও বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় প্রতিরক্ষা ও হাসপাতালের বরাতে আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আল-তুফাহ পাড়ার এক আবাসিক বাড়িতে আঘাতে আঠারো জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়েছে। পাশাপাশি নিকটস্থ কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে গাজার মেডিক্যাল সূত্র জানায়। গাজার সিভিল ডিফেন্স টেলিগ্রামে বলেছে, নিহতদের মধ্যে দুই মাস থেকে আট বছর বয়সী সাতটি শিশু রয়েছে।
দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুত শিবিরেও হামলা হয়েছে। সেখানে দুই শিশু নিহত এবং কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। আল-মাওয়াসি বহু লোককে আশ্রয় দেওয়া তথাকথিত নিরাপদ মানবিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত হলেও, এ এলাকাও বারবার বোমার নিশান হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিশ্ছিদ্র জ্বালানির ঘাটতির কারণে উত্তর গাজার অল্পসংখ্যক চিকিৎসা সুবিধাই কার্যকরভাবে রোগী সামলাতে পারছে না; হাসপাতালগুলো প্রচণ্ড চাপের কাছে অসহায় বলে মেডিক্যাল কর্মীরা জানিয়েছে।
এই হামলাগুলো ঘটে এমন সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যম ও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাঁর ২০-দফা গাজা পরিকল্পনার ওপর জরুরি সমঝোতার দাবি উঠেছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হামাস আংশিকভাবে মেনে নিয়েছে— বন্দী-মুক্তি, গাজার থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতি প্রভৃতি বিষয়ে দলটি এক ধরনের সম্মতি জানিয়েছে। তবে কিছু মৌলিক শর্ত, বিশেষত নিরস্ত্রীকরণ করতে তারা চূড়ান্তভাবে রাজি হয়নি বলে আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়।
হামাস শনিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলেছে, তারা ইসরায়েলের চলমান হামলার নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজায় জনগণকে নিরাপদ ও ত্রাণ প্রদানে তৎপর হতে বলেছে। একই সঙ্গে তারা কিছু শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি।


