আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানে এখনই কোনো সামরিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র—তেহরানকে এমন বার্তাই পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামলা না চালানোর শর্ত হিসেবে তিনি ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিকি মোঘাদাম পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সময় রাত ১টার দিকে তিনি এই বার্তা সম্পর্কে অবগত হন। ট্রাম্পের পাঠানো এই বার্তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না। তবে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থাপনা বা অবকাঠামোতে যেন পাল্টা হামলা চালানো না হয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূত রেজা আমিকি মোঘাদাম বলেন, ‘ইরানের জনগণের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং মসজিদে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে হামলার হুমকি দিলেও হঠাৎ সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করেছে এবং কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবে ট্রাম্পের এই ‘সুর নরম’ করা বার্তায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না তেহরান। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ান আল জাজিরাকে বলেন, ‘ট্রাম্পের কথায় ইরান সরকার পুরোপুরি বিশ্বাস স্থাপন করবে বলে মনে হয় না। যদিও ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবুও ইরানি নেতৃবৃন্দ মার্কিন হামলার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ও সতর্ক থাকবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ থাকাকালেও ইরান হামলার শিকার হয়েছিল, তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা ইরানিদের বিশ্বাস করা কঠিন।’
বাংলাফ্লো/এফআইআর






