সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের অব্যাহত পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ভারতীয় সামরিক বাহিনী। শুক্রবার সেনা, বিমান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসলামাবাদকে সতর্ক করে বলেন, যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করে, তবে “তার ভূগোলে স্থান থাকার নিশ্চয়তা থাকবে না”। এমনকি দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার ৩ অক্টোবর রাজস্থানের অনুপগড়ে এক সামরিক ফাঁড়িতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, নতুন করে যুদ্ধের ডাক এলে ভারত এবার আর সংযম দেখাবে না।
ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, সেনাপ্রধান অপারেশন সিন্দুর ১.০-তে আমরা সংযম দেখিয়েছিলাম। এবার তা করব না। এবার আমাদের পদক্ষেপ পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে। যদি তারা ভূগোলে থাকতে চায়, তবে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, গত হামলার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী শিবির ও ঘাঁটি। ভারতের হাতে থাকা প্রমাণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরলে পাকিস্তানের পক্ষে আর সন্ত্রাসবাদে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা সম্ভব হবে না। “আমরা পদক্ষেপ না নিলে পাকিস্তান সত্য গোপন করত,” মন্তব্য করেন দ্বিবেদী।
একই দিনে অপারেশন সিন্দুরের ক্ষয়ক্ষতির স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান এপি সিং দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন ভারত পাকিস্তানের অন্তত চার থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যার মধ্যে মার্কিন তৈরি এফ-১৬ ও চীনা জে-১৭ ছিল।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, পাকিস্তানের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে। “তারা যদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয় বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, আমরা পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছি মাত্র—তা বন্ধ করিনি,” বলেন সিং।
তৃতীয় পক্ষ নয়, পাকিস্তানের অনুরোধেই যুদ্ধবিরতি উল্লেখ করে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলার প্রতিশোধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিন্দুর’ যুদ্ধবিরতি ১০ মে ঘোষণার পর স্থগিত করা হয় পাকিস্তানের অনুরোধে, তৃতীয় পক্ষের চাপে নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিক্রিয়ায় ভারত এই বার্তাই দিয়েছে।


