জামায়াত ক্ষমা চাইলে সম্মান করতাম, এনসিপি ইতিহাস অস্বীকার করে—বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনই (ইসি) রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তখন সরকারের দায়িত্ব শুধু ইসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবেন না।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে, ইসির সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে বৈঠকে বসে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ‘একটি বড় অসংগতি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “৭০-৮০% ভোটার গণভোটে অংশ না নিলে নির্বাচনই হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানো, শেখ হাসিনার পতন বিএনপি-জামায়াত বা নতুন কোনো শক্তির কারণে হয়নি, বরং এটি ছিল আল্লাহর গজব, যা তিনি অসন্তুষ্টি তৈরি করার ফলে এসেছে।”
সংলাপে বঙ্গবীর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)- উভয়েরই কড়া সমালোচনা করেন।
“আমি খেলাফত আন্দোলনসহ সব ইসলামপন্থি দলকে সম্মান করি। তবে জামায়াতে ইসলামীকে করতাম যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইত। আমাকে হত্যা করা গেলেও মিথ্যা বলানো যাবে না।”
তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে ইতিহাস অস্বীকারের অভিযোগ তুলে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, এরশাদ হটাও আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান— সবকিছুকে তারা অস্বীকার করেছে।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজের ‘রাজনৈতিক পিতা’ উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী ইসিকে সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারকে বাইরে রেখে ভোট করলে ভালো নির্বাচন করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ ইলেকশন বন্ধ করার চেষ্টা করবে।” তিনি ইসিকে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যা করতে পারলে বাংলাদেশ ‘সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্ত’ দেশ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






