আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আন্তর্জাতিক মানব ভ্রূণ পাচারের (Embryo Trafficking) এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তর সাইপ্রাসের এরকান বিমানবন্দর থেকে ২৪ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি যুবককে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তার কাছে থাকা একটি বিশেষায়িত ট্রান্সপোর্ট কন্টেইনার থেকে টেস্ট টিউবে সিলগালা করা ৪টি মানব ভ্রূণ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা, যার গায়ে ‘লাইফ পার্সেল’ (Life Parcel) লেবেল লাগানো ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট নিউজ’ (Ynet News) জানায়, গত ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টায় বিমানবন্দরের ‘গেট-৮’ থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়। সে ইস্তাম্বুল হয়ে মেক্সিকোগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রী ছিল। এই ঘটনার পরপরই উত্তর সাইপ্রাসের লেফকোসা (উত্তর নিকোসিয়া) এলাকার একটি আইভিএফ (IVF) ক্লিনিকে একযোগে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটির পরিচালক ও একজন চিকিৎসকসহ দুই তুর্কি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আদালতের শুনানিতে পুলিশ জানায়, লেফকোসার ওই আইভিএফ সেন্টার থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়াই ভ্রূণগুলো স্থানান্তরের জন্য প্যাক করা হয়েছিল। আটককৃত দুই তুর্কি নাগরিকের একজন ভ্রূণ স্থানান্তরের নির্দেশনা এবং অন্যজন পারমিট আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর সাইপ্রাসের ‘সাইপ্রাস মেইল’ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইভিএফ ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানি প্রয়োজনীয় লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ভ্রূণগুলো এরকান বিমানবন্দর দিয়ে দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ নির ইয়াসলোভিচ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বজুড়ে এই ধরনের জটিল চিকিৎসা-সংক্রান্ত পাচার বা আইনি লঙ্ঘন দিন দিন বাড়ছে, যেখানে মূল আইনি প্রশ্নটি হলো—প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বাইরে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরেই কম খরচে ও শিথিল আইনি প্রক্রিয়ায় ফার্টিলিটি ট্যুরিজমের (Fertility Tourism) অন্যতম জনপ্রিয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাজ্য বা জার্মানির তুলনায় এখানে আইভিএফ (IVF) চিকিৎসার খরচ অনেক কম—প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ইউরো। তবে যথাযথ এবং স্বাধীন কোনো তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা না থাকায় এই খাতটি বারবার অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার চক্রের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






