তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এবার নিজেই চরম অস্বস্তিতে পড়লেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর প্রতিষ্ঠান টেসলা বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআই (মানুষের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাসম্পন্ন এআই) তৈরি নিয়ে কাজ করছে না। অথচ কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঠিক এর উল্টো দাবি করে বলেছিলেন, টেসলা এজিআই তৈরি করবে। নিজের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে আদালতে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন এই ধনকুবের।
গত বুধবারের এই শুনানিতে মাস্ক অভিযোগ করেন, মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআইয়ের জন্ম হলেও, এর সহপ্রতিষ্ঠাতারা পরে এটিকে সম্পূর্ণ মুনাফাভিত্তিক মডেলে পরিণত করেছেন। তবে জেরার সময় ওপেনএআইয়ের আইনজীবী উইলিয়াম স্যাভিট পরিস্থিতি উল্টে দেন। তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন যে, ২০১৬-১৭ সালের দিকে মাস্ক নিজেই প্রতিষ্ঠানটিকে মুনাফাভিত্তিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা থাকার কথা ছিল। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই তিনি ওপেনএআইতে তাঁর নিয়মিত অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেন।
আদালতে মাস্কের আর্থিক অনুদান নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের দাবি করলেও, আদালতে প্রমাণ হয় বাস্তবে তিনি দিয়েছিলেন প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার। এর জবাবে মাস্ক দাবি করেন, তাঁর প্রভাব ও যোগাযোগও এই বিনিয়োগের সমতুল্য অবদান রেখেছে। এছাড়া মাইক্রোসফটের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার সীমা শিথিল করার বিষয়টিই তাঁকে এই মামলা করতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি। মামলার শুনানিতে বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স জানিয়েছেন, কর্পোরেট কাঠামোতে এআই নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাস্কসহ ওপেনএআইয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে আবারও আদালতে ডাকা হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



