তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: ভূমিকম্পপ্রবণ বাংলাদেশের মানুষের প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি উদ্ভাবন। ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির (ডিআইআইটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম মোল্লা তৈরি করেছেন ‘স্মার্ট আর্থকোয়েক আর্লি ওয়ার্নিং ডিভাইস’। বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহর কাছে ডিভাইসটি হস্তান্তর করার সময় তিনি এর কার্যকারিতা তুলে ধরেন। ইব্রাহিম জানান, ভূমিকম্পের ধ্বংসাত্মক ‘এস-ওয়েভ’ (S-wave) আঘাত হানার আগেই অপেক্ষাকৃত দ্রুতগামী ‘পি-ওয়েভ’ (P-wave) শনাক্ত করে এটি মানুষকে সতর্ক করতে সক্ষম।
ডিভাইসটি ভূমিকম্পের উৎসস্থলের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে ২০ থেকে ৯০ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডাউকি ফল্ট থেকে ভূমিকম্প হলে এটি প্রায় ২০ সেকেন্ড এবং গ্রেট হিমালয়ান ফল্ট থেকে হলে প্রায় ৯০ সেকেন্ড আগে সাইরেন বাজাবে। এই মহামূল্যবান সময়ে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারবে এবং গ্যাস বা বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পারবে। বিশেষত্ব হলো, এটি চালাতে কোনো ইন্টারনেট বা ওয়াইফাইয়ের প্রয়োজন নেই, ফলে দুর্যোগের সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকলেও এটি সচল থাকবে।
ইব্রাহিম মোল্লা জানান, ডিভাইসটিতে উন্নত এআই-চালিত ‘PhaseNet’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটি রাস্তায় ভারী যানবাহনের কম্পন এবং প্রকৃত ভূমিকম্পের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে, যা ভুল অ্যালার্মের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। বিদেশি বাজারে এমন ডিভাইসের দাম যেখানে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা, সেখানে ইব্রাহিমের তৈরি যন্ত্রটির দাম পড়বে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর আগে ‘বাজারদর অ্যাপ’ তৈরি করে আলোচনায় আসা এই তরুণ উদ্ভাবক এখন সাশ্রয়ী মূল্যের এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






