লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ২০২৫ সাল শুরু হতে না হতেই যেন ক্যালেন্ডারের পাতা ফুরিয়ে গেল। মনে হচ্ছে, চোখের পলকে কেটে গেছে গোটা একটা বছর। ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—সময় কেন এত দ্রুত দৌড়ায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘড়ির কাঁটা একই গতিতে চললেও, বদলে যায় আমাদের মস্তিষ্কের সময় পরিমাপের ধরণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, আলো বা শব্দের মতো সময়কে আমাদের মস্তিষ্ক সরাসরি অনুভব করতে পারে না। আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে সময়কে ছোঁয়া যায় না। মস্তিষ্ক মূলত ঘটনা এবং পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে সময়ের হিসাব কষে। যখন জীবনে ঘটনা বা পরিবর্তন বেশি ঘটে, মস্তিষ্ক ধরে নেয় অনেক সময় পেরিয়েছে।
কোনো দুর্ঘটনার সময় মনে হয় সবকিছু খুব ধীরে ঘটছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ মিটার উচ্চতা থেকে পড়ার অভিজ্ঞতায় অংশগ্রহণকারীরা সময়কে বাস্তব সময়ের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি দীর্ঘ মনে করেছেন। কারণ, ভয় বা উত্তেজনার সময় মস্তিষ্ক অতিরিক্ত সতর্ক থাকে এবং প্রতিটি মুহূর্তের বিস্তারিত স্মৃতি জমা করে। ফলে পরে মনে হয়, সেই কয়েক সেকেন্ড ছিল অনন্তকাল।
বলা হয়, ‘Time flies when you are having fun’। প্রিয় কাজে ডুবে থাকলে বা ব্যস্ত থাকলে আমরা ঘড়ির দিকে তাকাই না, তাই সময় দ্রুত চলে যায়। অন্যদিকে, ডাক্তারের চেম্বারে অপেক্ষা বা একঘেয়ে সময়ে মস্তিষ্ক বারবার সময়ের দিকে মনোযোগ দেয়, ফলে সময় ধীর মনে হয়।
শৈশবে সবকিছু থাকে নতুন—প্রথম স্কুল, প্রথম বন্ধু। এসব নতুন অভিজ্ঞতা শক্তিশালী স্মৃতি তৈরি করে, তাই ছোটবেলার বছরগুলো দীর্ঘ মনে হয়। কিন্তু বয়স বাড়লে জীবন রুটিনে বাঁধা পড়ে। একই কাজ, একই পথ—ফলে মস্তিষ্কে নতুন স্মৃতি জমা হয় কম। বছর শেষে ফিরে তাকালে মনে হয়, বিশেষ কিছুই তো ঘটেনি! এ কারণেই বয়স্কদের কাছে বছরগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়কে থামানো সম্ভব নয়, কিন্তু অনুভবে দীর্ঘ করা সম্ভব। এর জন্য দুটি কাজ করা জরুরি:
১. নতুন অভিজ্ঞতা: রুটিন ভাঙুন। ভ্রমণ করুন, নতুন কিছু শিখুন।
২. স্মৃতি সংরক্ষণ: ডায়েরি লিখুন বা ছবি তুলুন। স্মৃতি যত স্পষ্ট হবে, অতীত তত দীর্ঘ মনে হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






